২৬ বছর পর অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনে জাপানকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে চীন ও ভারতের পর এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ডেটা সেন্টার নির্মাণের ব্যাপক চাহিদার ফলে দেশটিতে ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৮ কোটি ২০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯৯ সালের পর এবারই প্রথম উৎপাদনে জাপানকে টপকাতে সক্ষম হলো দেশটি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত উৎপাদন বৃদ্ধির প্রধান কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর শুল্ক নীতি। গত মার্চে আমদানীকৃত ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে দেশটি। পরে জুনে এ শুল্কহার বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়। এতে আমদানীকৃত ইস্পাতের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন নির্মাতারা স্থানীয় পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাতের দাম বিশ্ববাজারের গড় রফতানি মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। স্টিলবেঞ্চমার্কারের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন খাতে ব্যবহৃত হট-রোল্ড ইস্পাত কয়েলের দাম ১২ জানুয়ারি প্রতি টনে ৯৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার আগে অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় এ দাম ৩০ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে এআইয়ের অত্যধিক ব্যবহারের কারণে ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ইস্পাতের চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গত দুই বছরে ডেটা সেন্টার নির্মাণে বেসরকারি খাতের ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এ চাহিদা মেটাতে নিপ্পন স্টিল ও স্টিল ডাইনামিকসের মতো বড় কোম্পানিগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করছে।